দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

নেত্রকোনায় গত মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সন্ধ্যায় হঠাৎ ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে বোরো ধানের। এছাড়া মৌসুমি শাকসবজি, গাছপালা ভেঙে বেশ কিছু ঘরবাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ধানগাছে থোর বের হওয়ার সময়ে হঠাৎ শিলাবৃষ্টিতে বছরের প্রধান ফসল বোরো ধান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েছেন কৃষকরা। জেলার সদর, পূর্বধলা, মদন ও কেন্দুয়া উপজেলায় এসব ক্ষয়ক্ষতি বেশি হয়েছে বলে জানা গেছে।
ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জেলার সদর উপজেলার চল্লিশা ইউনিয়নের দড়িজাগী এবং সনুরা গ্রামের গইঞ্চাতুল ও বিল চলুঙ্গি এলাকায় প্রায় ৫ হাজার হেক্টর জমির মধ্যে অন্তত ৫০ শতাংশ ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে করে কৃষকদের মধ্যে চরম উৎকণ্ঠা ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এ এলাকার শাহবুল, ইউনুস, এনামুল, লালচান, বিল্লাল, বারেকসহ অনেক কৃষকের জমির ফসল নষ্ট হয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে বারেকের ৪ একর, শাহবুলের ২ একর, এনামুলের দেড় একর, ইউনুসের ৩ একর, বিল্লালের ১ একর, আলতু মিয়ার ২ একর, মুকুল মিয়া ও নাজিম উদ্দীন খার দেড় একর বোরো জমির মধ্যে শতকরা ৫০ ভাগ জমির ফসল বিনষ্ট হয়েছে। এছাড়া এরশাদ মিয়াসহ অসংখ্য কৃষকের জমিতেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে।
এদিকে শিলাবৃষ্টিতে কেন্দুয়া উপজেলার আশুজিয়া, নওপাড়া, বলাইশিমুল, দলপা ও কান্দিউড়া ইউনিয়নের কৃষকদের বোরো ধানের ক্ষতি হয়েছে।
আশুজিয়া ইউনিয়নের চান্দপাড়া গ্রামের কৃষক হারেছ মিয়া, দিলু হোসেন ও সবুজ মিয়াসহ বেশ কয়েকজন কৃষক জানান, থোর বের হওয়ার সময়ে শিলাবৃষ্টি হওয়ায় সব ধান গাছ ভেঙে গেছে। এসব গাছ থেকে ধান পাওয়ার কোনো সম্ভাবনা নাই। কৃষকরা অনেকেই ঋণ করে এবং ধারদেনা করে বোরো আবাদ করেছিলেন। তবে শিলাবৃষ্টিতে ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এখন তারা চরম ক্ষতির মুখে পড়ে গেছেন বলেও হতাশা ব্যক্ত করেন।
একই উপজেলার দলপা ইউনিয়নের ইটাউতা গ্রামের কৃষক আবুল বাসার তালুকদার জানান, প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করে এবং ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করে দ্রুত সরকারি সহায়তা না দিলে কৃষকরা মারাত্মক সংকটে পড়বেন।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্যমতে, জেলার সদর, পূর্বধলা, মদন ও কেন্দুয়া উপজেলায় শিলাবৃষ্টিতে বোরো ধানের জমি আক্রান্ত হয়েছে ৩২৩ হেক্টর। এরমধ্যে মদনে ২১৫ হেক্টর, কেন্দুয়ায় ৭৫ হেক্টর, পূর্বধলায় ৩ হেক্টর এবং সদর উপজেলায় ৩০ হেক্টর জমির বোরো ধান আক্রান্ত হয়েছে এবং পূর্বধলায় ৫ হেক্টর, মদনে ৫ হেক্টর ও কেন্দুয়ায় ৫ হেক্টরসহ জেলায় মোট ১৫ হেক্টর জমির শাকসবজি আক্রান্ত হয়েছে। তবে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শিলাবৃষ্টিতে আক্রান্ত বা ক্ষতির পরিমাণ আরও বেশ কয়েক গুণ বেশি হবে।
এ বিষয়ে নেত্রকোনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোকশেদুল হক বলেন, শিলাবৃষ্টিতে জেলার ৪টি উপজেলার ৩২৩ হেক্টর বোরো ধানের জমি এবং ১৫ হেক্টর জমির শাকসবজির ক্ষেত আক্রান্ত হয়েছে বলে আমরা মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্যে জানতে পেরেছি। প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ নির্ণয়ে কাজ চলছে।
/অ